মার্কিন পাল্টা শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে আইসিসিবি সভাপতি

চিঠি আদান-প্রদান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শুধু চিঠি আদান-প্রদান নয়, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সরাসরি দরকষাকষি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শুল্কহার বাড়ানোর কারণে আমরা (ব্যবসায়ীরা) চিন্তিত হয়ে গেছি। এ অবস্থায় সরকার সঠিক পদক্ষেপই নিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সরাসরি দরকষাকষি করতে হবে। এটা শুধু চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মাধ্যমে হবে না।’

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। এ বিষয়ে সরকারকে একটি টাস্কফোর্স গঠন করারও আহ্বান জানান তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির সহসভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, পর্ষদ সদস্য কামরান টি রহমান, আবদুল হাই সরকার, ফজলুল হক, সিমিন হোসেন, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো ভালো বাণিজ্য শর্ত আদায় করতে হবে। নতুন শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়া বা শুল্ক কমানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন আইসিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এই টাস্কফোর্সে শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারক ও আমদানিকারক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং কাস্টমস বিভাগের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করবে, বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে—এমন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেবে এবং বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।’

মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের অবকাঠামো, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দর কার্যক্রম আরো আধুনিক ও দক্ষ করতে হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার দিকগুলোয় গুরুত্ব দিতে হবে।’ এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পোশাক রফতানিকারক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে মনে করেন তিনি।

আইসিসিবি সভাপতি বলেন, ‘মার্কিন নতুন শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে হারে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, তা ১৯৩০-এর দশকের পর আর দেখা যায়নি। এমনকি বিখ্যাত ‘স্মুট হাউলি অ্যাক্ট’ (১৯২৯ সালে মহামন্দার সূত্রপাতের সময় মার্কিন শিল্পকে বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে ২০ হাজারেরও বেশি আমদানীকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি)-এর সময়েও এত বড় অংশ আমেরিকার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেনি। এটি নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা।’

নতুন নীতিমালা বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়মভিত্তিক পরিচালনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো বাংলাদেশসহ সব সরকারকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানাই। কারণ পাল্টা শুল্কারোপ সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে যেসব উন্নয়নশীল দেশ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে রয়েছে, তাদের ওপর নতুন এ কড়াকড়ি আরো বেশি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা করলেই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে ও ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী করতে সব দেশকে একত্রে কাজ করতে হবে।’

আরও